মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
পাতা

প্রখ্যাত ব্যক্তিত্ব

১। মাননীয় সংসদ সদস্য ( সাবেক) মরহুম আঃ রব মিয়া

 

 নাম মরহুম আঃ রব মিয়া,পিতার নাম- মরহুম খান সাহেব আমিন মিয়া, মাতার নাম, মরহুমা এয়াকুতেন্নছা,  গ্রাম- মকিমাবাদ, ডাকঘর- হাজীগঞ্জ, উপজেলা-হাজীগঞ্জ ,জেলা- চাঁদপুর। প্রাক্তন সংসদ সদস্য গণ পরিষদ সদস্য ও চাঁদপুর জেলা আওয়ামীলীগ এর সভাপতি ও বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ কার্যকরী কমটির সদস্য আঃ রব মিঞা । চাঁদপুর জেলার মুক্তিযোদ্ধা সংগঠকদের ভিতর এক অন্যতম নাম । যার খ্যাতি, সুনাম, সততা, নিষ্ঠা বৃহত্তর কুমিল্লা জেলা সহ পুরা চাঁদপুরবাসী এখন পর্যন্ত স্বরন করে।

        আবদুর রব মিঞা ১৯৫২ যখন ভাষা আন্দোলন হয় তখন তিনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। ভাষা আন্দোলনো ডাকে সালাম, রফিক, বরকত যখন রাস্তায় মিছিল নিয়ে বের হয়ে যায়, তখন তিনি ও এই মিছিলে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ গ্রহন করেন । পর্যায়ক্রমে পুলিশের গুলি যখন এলোপাথাড়িভাবে ছুটতে থাকে । সেই সময় মূহুর্তের মধ্যে সালাম, বরকত ও রফিকসহ আরো অনেকে রাস্তায় লুটিয়ে পড়ে। আবদুর রব মিঞা ভাগ্যক্রমে বেঁচে যান । এবং রক্তমাখা একটি জামা নিয়ে হাজীগঞ্জে এসে পৌছান। ভাষা আন্দোলনে মানুষকে উদ্ভুদ্ধ করাই ছিল তার লক্ষ্য । ঐ বছর তার পিতা মারা যান । উনার নামে হুলিয়া থাকায় তিনি গা ঢাকা দেন।১৯৯৪ সালে তিনি  বাই- নির্বাচনে ইউনিয়ন বোর্ডের মেম্বার হিসাবে নির্বাচিত হন । ১৯৬৫ সালে সাধারন নির্বাচনে তিনি পূনরায় মেম্বার নির্বাচিত হন। এক পর্যায়ে তিনি বৃহত্তর কুমিল্লা আওয়ামীলীগের ভাইস প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন । ১৯৬৫ সালে ফাতেমা জিন্নাহ ও আইয়ূব খানের জাতয়ি নির্বাচনে উনি ফাতেমা জিন্নাহ এর দল করেন। এবং আইয়ূব খানের মুসলিমলীগের বিরোধীতা করেন। পর্যায়ক্রমে চাঁদপুর জেলা হয় । এবং চাঁদপুর জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি নির্বাচিত হন । ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে উনি ছিলেন চাঁদপুর জেলার সংগ্রাম কমিটির প্রেসিডেন্ট।  রব সাহেব এবং আরো কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধা সংগঠকদের নেতৃত্বে ইন্ডিয়ান সৈন্য নিয়ে ৮ ই ডিসেম্বর চাঁদপুর জেলায় প্রবেশ করেন এবং পাক হানাদার বাহিনী থেকে চাঁদপুর বাসীকে মুক্ত করেন ।

       ১৯৭৪ সালে জাতীয় নির্বাচনে তিনি যখন মনোনয়ন পাননি তখন বঙ্গবন্ধু তাকে ডেকে রাষ্ট্রায়ত্ব রূপালী ব্যাংকের ডাইরেক্টর হিসেবে নিয়োগ দেন । ১৯৭৪ সারে রাষ্ট্রী প্রতিনিধি হিসেবে সোভিয়েত রাশিয়ায় গমন করে এবং প্রায় ৬ মাস সেখানে অবস্থান করেন। বঙ্গবন্ধুর সাথে উনার অত্যান্ত গনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল । ১৯৭৫ সালের ৭ আগষ্ট বঙ্গবন্ধু নিজে উনাকে ঢাকার বাসভবন থেকে নিয়ে গণভবনে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সারাদিন কথোপকোথন করেন। ঐ দিন উনার কি ব্যাপারে আলোচনা করেছেন তা আজো প্রকাশিত হয় নি।১৯৭৫ সালের ১৫ই আগষ্ট সকাল ১১ বঙ্গবন্ধুর সাথে সাক্ষাৎ করার নিধারিত সময় ছিল। কিন্তু কি বিষয় নিয়ে আলোচনা করার কথা ছিল তা আজ ও জানা যায় নি। পরবর্তী কালে বঙ্গবন্ধূর ডাইরি থেকে এই তথ্য পাওয়া যায়। ১৫ই আগষ্ট বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুর পর ১৬ই আগষ্ট আবদুর রব সাহেব গ্রেপ্তার হন। খোদার রহমতে ৩৬ ঘন্টা পর উনি মুক্ত হন এবং চাঁদপুর জেলা আওয়ামীলীগের হালা ধরেন। ১৯৮৫ সালে তৎকালীন ক্ষমতাসীন সরকারের আমলে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে উনি এম পি নির্বাচিত হন।

           তিনি হাজীগঞ্জ পাইলট উচ্চ বিদ্যালেয়ের প্রতিষ্ঠাতা ও দাতা সদস্য, সংলগ্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ও দাতা সদস্য । উনার বাবার নামে আমিন মেমোরিয়াল হাই স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন। এবং বাবার কাছে থেকে পাওয়া শেষ সম্পদ টুকু তিনি বিদ্যালয়ের জন্য দান করে যান।  উনি হাজীগঞ্জ মডেল এবং ডিগ্রি কলেজের প্রতিষ্ঠাতা ও দাতা সদস্য। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত চাঁদপুর জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি এবং বাংলাদেশ আওয়ামীলগ কেন্দ্রীয় কার্যকরী কমিটির সদস্য হিসেবে অত্যান্ত সততা, নিষ্ঠা এবং সুনামের সাথে তার দায়িত্ব ও  কর্তব্য পালন করে যান। আমরা এই মহান বীর মুক্তিযোদ্ধা সংগঠকের বেদ্রহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করিছি।